বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় দ্বিগুণ বা ৯২ শতাংশ বেড়েছে। স্টারলিংকের গ্রাহক বৃদ্ধি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কম্পিউট সুবিধার ব্যাপক চাহিদার কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইলোন মাস্কের কোম্পানিটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৮০ কোটি ডলার। স্পেসএক্স মূলত রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ও এআই অবকাঠামো নিয়ে কাজ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির মহাকাশ খাতের আয় ২৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেটের উৎক্ষেপণ সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত জুনে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছেড়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে স্পেসএক্স। এর পরই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে নাম লেখান কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ইলোন মাস্ক।
স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই সময় এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কোম্পানিটি আইপিও থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৩৫ ডলার। স্পেসএক্সের এ আইপিওটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর ঐতিহাসিক ২৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের আইপিওয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড়।
স্পেসএক্সের ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের আয় গত প্রান্তিকে ৬৬ শতাংশ বেড়ে ৪৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় বিশ্বজুড়ে ১৭ লাখেরও বেশি নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। এটি এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ গ্রাহক বাড়ার একটি নতুন রেকর্ড। এছাড়া তিন মাসে স্পেসএক্স স্টারলিংক মোবাইলের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি করেছে। এর মধ্যে জাপানের সফটব্যাংক ও এনটিটি ডকোমো ও নিউজিল্যান্ডের স্পার্কের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি করা হয়েছে।
কোম্পানিটি জানায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে তাদের নতুন এআই ব্যবসা থেকে। এ খাতের আয় ২৪৭ শতাংশ বেড়ে ২৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত প্রান্তিকে কোম্পানিটি ক্লাউড সার্ভিসের জন্য ১ হাজার ৪১০ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে ১৬০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ে।
তবে এআই অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানির মূলধনি খরচ বা ক্যাপেক্স অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। কেবল এআই খাতের জন্যই প্রতিষ্ঠানটিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এ খরচের পরিমাণ ছিল ৭৭০ কোটি ডলার।
ভারী বিনিয়োগের কারণে গত প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মোট নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। অবশ্য গত বছরের একই সময় লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলার। সে হিসেবে এবার লোকসান কিছুটা কম।
এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদের মধ্যে স্পেসএক্স টেনেসিতে ‘কলোসাস-২’ নামের ডেটা সেন্টারের কাজটি চালু রেখেছে। এর মাধ্যমে কোম্পানির মোট কম্পিউট সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াটে।
স্পেসএক্সের নতুন তৈরি সব ডেটা সেন্টারে কেবল এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করা হবে উল্লেখ করে মাস্ক বলেন, ‘আমরা এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমাদের কাছে “ভেরা-রুবিন” আর্কিটেকচারকে সেরা এআই কম্পিউটার বলে মনে হয়েছে। এনভিডিয়ার সঙ্গে আমাদের গভীর ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব রয়েছে।’